দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টস পণ্যের বকেয়া ৯৮ লাখ টাকা আদায় করতে গিয়ে হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে এ্যাম্পায়ার কটন কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক আতিকুল ইসলাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে আসাদুজ্জামান হিরু ও সাগর হোসাইনের কাছে পাওনা টাকা এবং তা চাইতে গেলে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনার স্বামী গোলাম রাব্বানী শিমুলের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এ্যাম্পায়ার কটনের জিএম রাসেল আহম্মেদ।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ্যাম্পায়ার কটনের মালিক রাইসান রোমান ও আতিকুল ইসলাম। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ২০২০ সালে পরিচয়ের সূত্র ধরে আসাদুজ্জামান হিরু (৪৫) ও সাগর হোসাইন (৩২) নগদ ও বাকিতে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে হিসাব-নিকাশে তাঁদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির ৯৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
রাসেল আহাম্মেদ বলেন, বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তাঁরা আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ২০২৫ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে তাঁরা দীর্ঘ সময় পলাতক থাকায় পুলিশ তাঁদের সন্ধান পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রাসেল জানান, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় এ্যাম্পায়ার কটনের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, নিউ ইনডেক্স এক্সোসরিজ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানেরও হিরু ও সাগরের কাছে পাঁচ কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। ফতুল্লার অক্টো অফিস এলাকার নীরজুম হাউজিং সোসাইটিতে এ পাওনা নিয়ে সমঝোতার সময় সাগর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বকেয়া টাকার পরিবর্তে হিরু ও সাগরের দুটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানান তিনি।
রাসেল আহাম্মেদ আরও বলেন, খবর পেয়ে এ্যাম্পায়ার কটনের মালিক রাইসান রোমান ও আতিকুল ইসলাম পাওনা টাকার বিষয়ে কথা বলতে সেখানে যান। এ সময় সাগরের সঙ্গে থাকা গোলাম রাব্বানী শিমুল টাকা দাবি করলে সংবাদ প্রকাশ এবং মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সাগর পাওনা টাকার হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে করে এ্যাম্পায়ার কটনের কার্যালয়ে যান। পরে তাঁর অভিভাবকেরা বৈঠকে উপস্থিত হয়ে পাওনা টাকা পরিশোধের শর্তে তাঁকে নিয়ে যান বলে জানান রাসেল। এ সময় সৌরভ নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন করে ঘটনা মীমাংসার জন্য চাপ দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ্যাম্পায়ার কটন কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো বিষয়টি বিকেএমইএ ও বিসিক শিল্প মালিক সমিতিকে জানানো হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাগরের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর পাওনা টাকা এবং তা চাইতে গেলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোলাম রাব্বানী শিমুল। সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাগর তাঁর বন্ধু উল্লেখ করে শিমুল বলেন, তাঁরা একসঙ্গে যাওয়ার সময় একদল ব্যক্তি ক্ষুর নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করে এবং সাগরকে মারধর করে নিয়ে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন, বিসিকের একজন ব্যবসায়ী সাগরকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছেন এবং পুলিশের সহযোগিতায় তিনি ছাড়া পেয়েছেন। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শিমুল।
এদিকে এ্যাম্পায়ার কটন কর্তৃপক্ষের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে নিউ ইনডেক্স এক্সোসরিজের লোকজনের সঙ্গে বিরোধের দৃশ্য দেখা গেলেও এ্যাম্পায়ার কটনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো বিশৃঙ্খলার দৃশ্য দেখা যায়নি। অন্য একটি ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট ভবনের কেয়ারটেকারকে আগের রাতে শিমুলসহ আরও একজনের ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টার কথা বলতে দেখা যায় বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এমএস/